কয়েসের আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি?

কয়েসের আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি?

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শেষ সময়ে ঢাকায় তৎপরতা চালাচ্ছেন।

সর্বশেষ তথ্য বলছে- এ পর্যন্ত ২১ প্রার্থী দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সংগৃহীত মনোনয়ন ফরম এরই মধ্যে অনেকেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমাও দিয়েছেন। আগামী শনিবার দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ।

দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন জানান, আগামী শনিবার দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। পার্লামেন্টারি বোর্ড প্রার্থী নির্ধারণ করবে। দলের মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ের জন্য নেতা-কর্মীদেরকে কাজ করতে হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, দলের টানা তিনবারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনর (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, প্রয়াত সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর (কয়েস) সহধর্মিনী ফারজানা সামাদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলার পিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, জেলার যুগ্ম সম্পাদক কবির উদ্দিন আহমদ, দলের যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা দেওয়ান গৌছ সুলতান, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শমসের জামাল, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, দলের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সভাপতি ও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সিলেটের প্রথম করদাতা বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি ও এটিএন বাংলার সিলেট ব্যুরো চীফ শাহ মুজিবুর রহমান জকন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এডভোকেট বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী এনাম উল ইসলাম, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান শাহিন ও এম সদরুল আহমেদ খাঁন, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খাঁন, সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম আহমদ, ইস্ট লন্ডন যুবলীগের সভাপতি হোসাইন আহমদ ও শ্রমিক লীগ নেতা শামীম ইকবাল মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে আবার কেউ কেউ এ ফরম জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
 
জানা গেছে, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ এই আসনে মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে আছেন। কিন্তু বিগত নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে তিনি আবারও মাঠে নামেন। উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হতে মাঠে নামেন ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী। তিনি এবারই প্রথম দলের মনোনয়ন চাচ্ছেন। তার সহোদর বীর মুক্তিযোদ্ধা ইনামুল হক চৌধুরী বীরপ্রতীক দু’বার সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রয়াত স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে দলের মনোনয়ন চান ফারজানা সামাদ চৌধুরী। এডভোকেট নিজাম উদ্দিন মাঠে আছেন মনোনয়ন পেতে। গেল নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে মাঠে ছিলেন হাবিবুর রহমান হাবিব। এবারও উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হতে তিনি মাঠে রয়েছেন। এছাড়া, অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ এবারই প্রথমবারের মতো ছুটে এসেছেন।

 
এদিকে প্রার্থীদের মধ্যে  নির্বাচনী এলাকার পাড়া-মহল্লায় সাঁটানো হয় ব্যানার- ফেস্টুন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা। প্রার্থীদের কেউ কেউ সিলেট মহানগর এলাকায়ও প্রচারের জন্য ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটান। এজন্য এসব প্রার্থীকে নোটিশ দেয় সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ১৫ জুন মঙ্গলবার। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৭ জুন। আপীল দায়ের ১৮ ও ২০ জুন। আপীল নিষ্পত্তি ২১ ও ২২ জুন। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ জুন। প্রতীক বরাদ্দ ২৪ জুন। ১৪ জুলাই বুধবার এই আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী সিলেট-৩ আসনে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৮ হাজার ৬১৮ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯১ জন।

গত ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেট -৩ আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা যান।