বিশ্ববাসীর চোখ মারাকানা স্টেডিয়ামে

বিশ্ববাসীর চোখ মারাকানা স্টেডিয়ামে

আর অপেক্ষা মানছে না? এমনটা হতেই পারে। একটি রাতই মনে হতে পারে হাজার রাতের সমান। এমন ফাইনাল যে আসে ধুমকেতুর মতো দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর। রাত পোহালেই যে মাঠে নামছে চির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামের বুক চিড়ে দাপিয়ে বেড়াবেন নেইমার ও লিওনেল মেসি। প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফিতে চোখ রেখে মাঠে নামছেন তারা।

রোববার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় কোপা আমেরিকার এই মহাআকর্ষণীয় ফাইনাল সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি টেন ২ ও সনি সিক্স।

ব্রাজিল এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় কোপার মিশনে নামছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার খরা পাক্কা ২৮ বছরের। ১৯৯৩ সালের কোপার পর আর কখনও কোনও শিরোপা ঘরে নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। তবে আর্জেন্টিনার জন্য যতটা এই শিরোপা আকাঙ্ক্ষার, তার চেয়েও বহুগুণ আকাঙ্ক্ষার মেসির জন্য। দেশের জার্সিতে একটি ট্রফি যে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর্জেন্টিনা প্রায় তিন দশক ধরে যখন আক্ষেপের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন ব্রাজিল জিতেছে পাঁচটি কোপা ও দুটি বিশ্বকাপ। নিজেদের ফেভারিট মানতে ইতস্তত বোধ করছেন না সেলেসাও কোচ তিতে, ‘এটাই ইতিহাস। যদিও পেছন ফিরে তাকানোর কোনও মানে হয় না। দুটি কোপা আমেরিকায় আমরা অপরাজিত এবং অর্জনও আমাদের ভালো। কিন্তু আমি এসব বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাই না।’

আর আর্জেন্টিনার ট্রফি খরা সম্পর্কে কোনও প্রশ্নই উঠতে দিলেন না কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার খেলোয়াড়রা এই আক্ষেপ ঘুচানোর চাপে ভুগছেন, এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করলেন তিনি, ‘আমাদের এটাকে সহজভাবে নিতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে। কোনও ধরনের উদ্বেগ ছাড়াই জেতার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে। এই মহামারি প্রমাণ করেছে যে ফুটবল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

লড়াইটা যে শুধু দক্ষিণ আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তির মধ্যে নয়, তা স্পষ্ট। এই সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি ও নেইমারেরও লড়াই। এবারের আসরে মেসি উড়ছেন। গোল ও অ্যাসিস্টে সবার উপরে। চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে নেইমারও প্রত্যাশা পূরণ করেছেন দুটি গোল করে ও তিনটি করিয়ে।

গত আসরে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হলেও নেইমারের জন্য শিরোপা থেকে গেছে অধরা। গতবার ছিলেন না পিএসজি স্ট্রাইকার। আর মেসি আগের পাঁচবারে দুইবার ফাইনাল খেললেও আক্ষেপ থেকে গেছে। এবার যে তার একমাত্র চাওয়া শিরোপা, সেটা লুকাননি কখনও।

কিন্তু মেসির এই স্বপ্ন আবারও ভেঙে দিতে চায় ব্রাজিল। ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে আটকানোর পরিকল্পনা করে রেখেছেন তিতে। ব্রাজিলিয়ান কোচের মতে, মেসিকে আটকালেই ম্যাচ তাদের। অবশ্য এই মহাপরিকল্পনা গোপন রেখেছেন তিনি, ‘আমি জানি (আমরা কী করবো), কিন্তু আমি আপনাদের বলছি না সেটা। আমরা কাউকে বশীভূত করবো না, কেবল তাদের সক্রিয়তা কমিয়ে রাখবো।’

গতবার সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হারের শোধ নেওয়ারও সুযোগ আর্জেন্টিনার। তবে এসব প্রতিশোধ মাথায় আনছেন না স্কালোনি। ৪৩ বছর বয়সী কোচের চাওয়া, তার দল শুধু ইতিবাচক থাকুক। তিনি বলেছেন, ‘কাল ফাইনাল। আমাদের এটা এমনভাবে খেলতে হবে যেন মনে হয় বুয়েন্স আয়ার্স, স্যান্টিয়াগো ডি চিলি কিংবা ব্রানকুইল্লাতে খেলছি।’

কারণ ঘরের মাঠে ব্রাজিল কখনও কোপা হারেনি। স্বাগতিক হিসেবে পাঁচবারই খেলে চ্যাম্পিয়ন। এই বিষয়টা যেন খেলোয়াড়দের মাথায় না আসে, সেটাই আহ্বান করলেন স্কালোনি। 

এখন দেখার অপেক্ষা, এই মহারণ শেষে মেসির হাতে ট্রফি নিয়ে আর্জেন্টিনা উৎসব করতে পারে কি না। সারা বিশ্বই তো তা চাইছে, এমনকি ব্রাজিলিয়ানরাও।