সিলেটে ওয়ার্কার্স পার্টির ‌‌‌‌‍‌সন্ত্রাস বিরোধী দিবস পালন

সিলেটে ওয়ার্কার্স পার্টির ‌‌‌‌‍‌সন্ত্রাস বিরোধী দিবস পালন

বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট জেলা কমিটির উদ্যোগে সন্ত্রাস বিরোধী দিবস পালন উপলক্ষে এক প্রতিবাদী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৪টায় পার্টির কার্যালয়ে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

১৯৯২ সালের আজকের এই দিনে তৎকালীন বিএনপি জামাতজোট সরকারের শাসনামলে দেশের শ্রমজীবী মেহনতি জনতার অধিকার আদায়ের পার্টির বর্তমান সভাপতি রাশেদ খান হত্যার উদ্দেশে তার উপর গুলি করে ও অতর্কিতে হামলা চালায়। উক্ত হত্যা প্রচেষ্টার ষড়যন্ত্রকারী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবীতে এবং সন্ত্রাস ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের জন্য জোর দাবী জানান।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি সিকন্দর আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাশেদ মেনন এ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন চিরঞ্জীবী নেতা যিনি ৬২র ছাত্র আন্দোলন, ৬৯ এর গন অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সহ এদেশের শ্রমিক- মেহনতি মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেন। তৎকালীন সময়ে জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী, জঙ্গিবাদ - সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য তিনি সারাদেশের মানুষকে বিশেষ করে ছাত্র-যুব ও পার্টির নেতা কর্মীদের সংগঠিত করছিলেন। তাই যারা এ দেশকে একটি জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তারাই এ হত্যা প্রচেষ্টা চালায়।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তৎকালীন বিএনপি সরকার চাপের মুখে একটি চার্জশীট গঠন করলেও ২৯বছরেও সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচার সম্পন্ন হয়নি। বক্তারা তাই ১৪ দল সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অবিলম্বে বিচার দাবী করেন। 

সভাপতির বক্তব্যে কমরেড সিকন্দর আলী বলেন, বিএনপি সরকার তাদের শাসনামলে সন্ত্রাস নির্মূলে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ নামে বিচার বহির্ভূত হত্যা চালায় এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের নাম ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার, গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যা সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী। শুধু হত্যা খুন নয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্মের নামে জঙ্গিবাদী হামলা, ব্লগার হত্যা, দেশব্যাপী শিশু ও নারী নির্যাতন, ভূমিদখল ইত্যাদি মহামারি আকার ধারণ করেছে। দেশব্যাপী স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা, শিক্ষাখাতসহ প্রশাসনের সর্বস্তরে দুর্নীতিও সন্ত্রাসের নামান্তর তাই এসব দুর্নীতির বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, ১৪ দলের যে ঐক্য তা বজায় রাখতে হবে এবং সন্ত্রাস নির্মূল ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি দলমত নির্বিশেষ সন্ত্রাস নির্মূলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান।