উত্তপ্ত সিলেটের আওয়ামী রাজনীতি, নাদেলের স্ট্যাটাসে কিসের ইঙ্গিত? 

উত্তপ্ত সিলেটের আওয়ামী রাজনীতি, নাদেলের স্ট্যাটাসে কিসের ইঙ্গিত? 

কামরুল ইসলাম মাহি || গত কয়েকদিন থেকেই উত্তপ্ত সিলেটের আওয়ামী রাজনীতি। শীর্ষ দুই নেতার কথার লাইড়য়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বলয়বিত্তিক রাজনীতির মেরুকরণ সামনে আসছে ফের। এরমধ্যে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। নাসির-আনোয়ারের বাকযুদ্ধের মধ্যে এবার আলোচনয় নাদেল।

মেয়রকে ইঙ্গিত করে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খানের বক্তব্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জান চৌধুরীর পাল্টা জবাবের মধ্যে 'মানুষের অহংকার কোন দিন সত্যকে গ্রহন করতে দেয় না... ' এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।


বুধবার নাদেল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বুদ্ধপূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন 'মানুষের অহংকার কোন দিন সত্যকে গ্রহন করতে দেয় না, তাই অহংকার করা কখনো উচিত না'।

নাসির উদ্দিন খানের 'আত্মঅহংকারী' ব্যক্তব্য আর আনোয়ারুজ্জানের 'কেউ চোখ রাঙালে কোনো কিছু আসে যায় না' এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে নাদেলের এই ফেসবুক স্ট্যাটাসকে অনেকেই ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পদধারী কয়েকজন নেতা বলছেন, নাসির উদ্দিন বক্তব্যে বলেছেন 'আমরা টাকা খরচ করে অনেককে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছি। সেটা ‍ভুললে চলবে না। আমার পাওয়ার আছে, আমার অমুক আছে-তমুক আছে, সেটা থাকবে না।' আর মেয়র বলছেন 'কেউ চোখ রাঙালে কোনো কিছু আসে যায় না। কার দৌড় কতটুকু জানা আছে।' এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা নাদেলের এই মন্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছু সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ এক নেতা বলেন, মুলত নাসির উদ্দিনের অহংকারবোধ ও মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের 'চোখ রাঙানি ভয় পাইনা' এমন আত্মবিশ্বাসের প্রতি সম্ববত নাদেল সাহেব ইঙ্গিত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে অহিংস হবে হবে এটাও হতে পারে। তবে তিনি এর ব্যাখ্যা সঠিক করে দিতে পারেন।

নাদেল বরাবরই সিলেটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থেকে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ পর্যাক্রমে কেন্দ্রের ঢানা দুবার সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে ক্লিন ইমেজ খ্যাতি নিয়ে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিপুল ভোটে। সিলেটের সকল শেণী পেশার মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য এই আওয়ামী লীগ নেতা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন বেশ সুনামের সঙ্গে।

সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে - সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর , সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট রঞ্জিত চন্দ্র সরকার, সদস্য ও সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহাসহ সিলেট আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের অদৃশ্য নেতৃত্বে রয়েছেন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।


অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন মিলে একটি বলয়। তাদেন মূল নেতৃত্বে নাসির।

প্রসঙ্গত- সম্প্রতি একটি আলোচনা সভায় কৌশলে মেয়রকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন নাসির উদ্দিন খান। তাঁর এই বক্তব্যের পাল্টা জবাবও দিয়েছেন আনোয়ারুজ্জামান ।

বক্তব্যে নাসির উদ্দিন খান নিজেদের জেল-জুলুমসহ নানা সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘অনেকে বিদেশে বসে মাল কামিয়েছেন। অনেক আন্দোলন করেছি। আজ মনে হয়, আমরা পরগাছা। সুবিধাভোগীরা অনেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে গেছেন। এখন কেউ কেউ মনে করেন, তাঁর বাবার সম্পত্তি হয়ে গেছে সিলেট।’ 

এরপর নাসির উদ্দিনের বক্তব্যের জবাব দিয়ে আনোয়ারুজ্জামান বলেন, ‘সবাই ঠান্ডা মাথায় মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। কেউ চোখ রাঙালে কোনো কিছু আসে যায় না। কার দৌড় কতটুকু জানা আছে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে বলতে চাই না। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন। নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করে নিজেদের নবাব ভাববেন না।’ তবে মেয়র তার পুরো বক্তব্যে কারো নাম উল্লেখ করেননি।